শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে বার্সার জয়

iniesta-messi-neymarনিজস্ব প্রতিবেদক: শেষ পর্যন্ত এতটা উত্তেজনায় গড়াতে পারে ম্যাচ, এ ধারনাই ছিল না বার্সেলোনা-অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, কারও। অথচ, ভিসেন্তে ক্যালদেরনে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি হয়ে রইল বেশ উত্তেজনাকর আর রোমাঞ্চে ভরপুর। ম্যাচের প্রতিটি পরতে পরতে রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা!

আবার ম্যাচটি শুধু রোমাঞ্চ আর উত্তেজনায় ঠাসা হয়েই থাকেনি, গড়ালো অফুটবলীয় কর্মকাণ্ডেও! দু’দলের খেলোয়াড়রা মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ধস্তাধস্তিও করলেন! যে কারণে রেফারিকে মোট ১০ বার হলুদ কার্ড বের করতে হলো আর লাল কার্ড বের করতে হয়েছে কার্ড দু’জন! অ্যাটলেটিকোর দু’জনকেই লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বহিস্কার হতে হয়েছে।

তবু শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে জয়ী হলো বার্সেলোনা। ভিসেন্তে ক্যালদেরনে বারুদে ঠাসা শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে নেইমারের জোড়া গোলে অ্যাটলেটিকোকে ৩-২ এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোল ব্যবধানে হারিয়ে কোপা ডেল রের সেমিফাইনালে পা রাখল কাতালানরা।

শুরুতেই অবশ্য স্বাগতিক অ্যাটলেটিকো এগিয়ে যায়। প্রথম মিনিটেই গোল করে মাদ্রিদবাসিদের আনন্দে ভাসান ঘরের ছেলে ফার্নান্দো তোরেস! হ্যাভিয়ের মাচেরানোর ব্যর্থতায় তোরেসের ২০ গজি শট জাল খুঁজে পায়।

লুইস সুয়ারেজের বাড়িয়ে দেওয়া বলে নেইমারের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে নয় মিনিটের মাথায় গোল পরিশোধ করে বার্সা।

২৯ মিনিটে হুয়ানফ্রানকে মাচেরানোর ট্যাকল। সঙ্গে সঙ্গে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি! ট্যাকলটা আদৌ ‘বাজে’ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তো আছেই। টিভি রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা গেল, ট্যাকলটা ছিল বক্সের বাইরে! ৩০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে অ্যাটলেটিকোকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নিলেন রাউল গাসিয়া।

neymar৩৮ মিনিটে আরেক নাটক। ইভান রাকিতিচের কর্নার ফ্লিক করেছিলেন সার্জিও বুসকেটস। কিন্তু ক্লিয়ার করতে গিয়েই নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দিলেন অ্যাটলেটিকোর মিরান্ডা! সমতায় ফিরল বার্সা।

৪১ মিনিটে বক্সে অ্যাটলেটিকোর আঁতোইন গ্রিজমানের শটটা লাগল জর্দি আলবার হাতে। কিন্তু রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়া বার্সার রক্ষা! তখনই লুইস এনরিকের দলের দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণ। লিওনেল মেসির ক্রসটা আলতো টোকায় নেইমারকে বাড়িয়ে দেন আলবা। দারুণ এক ফিনিশিংয় ব্যবধান বাড়িয়ে নেন নেইমার।

আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ, গোল-পাল্টা গোল হওয়ার প্রথমার্ধেই হয়ে গেল। স্কোরলাইন ৩-২ নিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় আরেক কাণ্ড। কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লেন তোরেস-নেইমার।
ওদিকে গাসিয়ার সঙ্গে লেগে গেল বার্সার কোচিং স্টাফদের! রীতিমতো ধাক্কাধাক্কি! বিরতির পরপরই লাল কার্ড দেখায় দ্বিতীয়ার্ধ অ্যাটলেটিকো নামল গাবিকে ছাড়াই।

ম্যাচের পর ক্যানাল প্লাসকে গাবি বলেছেন, ‘টানেলে রেফারিকে কেবল বললাম, ওটা পেনাল্টি ছিল (সম্ভবত আলবার হ্যান্ডবল নিয়ে), লাল কার্ড দেখানোর মতো। টিভি দেখলে বুঝবেন, আপনি ভুল করেছেন। অমনি তিনি বললেন, তোমাকেই লাল কার্ড দেখানো হলো। আমি এর বেশি কিছুই বলিনি।’

messi-neymarদ্বিতীয়ার্ধে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল দেখা গেল না। এত বেশি ফাউল, টিভি ধারাভাষ্যকারেরা বললেন, ‘কুৎসিত দ্বিতীয়ার্ধ!’ এ দায় অ্যাটলেটিকোর ওপর বেশি বর্তাবে। ফ্রি-কিক না পেয়ে আরদা তুরান তো মেজাজ হারিয়ে বুট খুলে ছুড়ে মারলেন সহকারী রেফারিকে! উদ্ভট আচরণের দায়ে দেখলেন হলুদ কার্ড। শাস্তিটা যথেষ্ট হলো কি না, এ নিয়েও হলো আলোচনা।

৮৪ মিনিটে অ্যাটলেটিকো মিডফিল্ডার মারিও সুয়ারেজ দুটি হলুদ কার্ডের ফল হিসেবে দেখলেন লাল কার্ড। ডিয়েগো সিমিওনের দল পরিণত হলো নয়জনে! ম্যাচে ১০টি হলুদ কার্ডের সাতটিই অ্যাটলেটিকোর। বার্সার তিনটি-মাচেরানো, দানি আলভেজ ও মেসি। অ্যাটলেটিকো ফাউল করেছে ১৮টি, বার্সা ১২টি। বল দখলে ঢের এগিয়ে বার্সা, ৭৫ শতাংশ।

ম্যাচে মেসি ছিলেন অনেকটা বোতলবন্দী। লক্ষ্যে তেমন শট নিতে পারেননি বার্সা ফরোয়ার্ড। তবে নেইমারের দুটি গোলের উৎস ছিলেন তিনি।