‘টি-টোয়েন্টিতে আমরা সবার নিচে’

sahabuddin-chakladar

ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ মিলখা সিং। তার জীবনি নিয়ে তৈরী হয়েছে ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ ফিল্ম। তিনি ক্রিকেট নিয়ে খুব উৎসাহ দেখতে রাজী হলেন না, এ জন্য এই খেলাটার নিচে সব খেলাই চাপা পরে যাচ্ছে। একই কথা খাটে আমাদের বাংলাদেশের জন্যও। ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের উচিত অনান্য খেলাকেও প্রয়োজনীয় তদারকির মাধ্যমে জনগনের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করা। আমাদের অন্যসব খেলা থেকে ক্রিকেট সব রকমের সহযোগিতাতে হাজার গুন এগিয়ে-সেই ক্রিকেট দলটি এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ করল যুদ্ধবধ্বিস্ত আফগানিস্তানের নিচে থেকে। ১০ টি দল এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছে, আমাদের অবস্থান ১০ নম্বরে। আফগানিস্তান ৯ নম্বরে।

তাসকিন আর আরাফাত সানি বোলিং অ্যাকশন ত্রুটির কারণে নিষিদ্ধ হয়েছেন। এই তরুণ দুই বোলার অ্যাকশন শুধরিয়েও আর আগের মতো সাবলীল হতে পারবে কিনা সেই সন্দেহ থেকেই যায়। আমাদের ঘরোয়া টুনামেন্টগুলোতে বোলিং অ্যাকশনের খুটিনাটি বিষয়গুলোতে ক্রিকেট বোর্ড যদি বেশী গুরুত্ব দেয় তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্নের মুখে পরতে হবেনা । অভ্যাস সংশোধন করে নূতন ভাবে বোলিং শুরু করলে বোলার তার ছন্দ হারাবেই। আর এই জন্যই পুরানো বিধ্বংসী বোলারকে সংশোধনের পর ততটা ভয়ংকর হতে দেখা যায় না।

খেলোয়াড়েরা যে যৌবনেরও প্রতীক। উদ্দামতা, আবেগ আর অল্প সময়ে অতি পরচিতি আমাদের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের অনেকের মধ্যেই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষন দৃষ্টিকটুভাবেই জনসমক্ষে চলে এসেছে। খেলোয়াড়দের এককভাবে দোষ দেওয়া ঠিক নয়। ক্রিকেট বোর্ডইতো অভিভাবক। খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট সীমারেখা অতিক্রম না করার হুশিয়ারি একটি দলকে শৃঙ্খলার মধ্যে আবদ্ধ রাখে। ৩ বলে ২ রান না করার ব্যর্থতা নিয়ে গভীর আলোচনাতে আসলে দেখা যাবে যে…….। ঐ যে ভারতের বিরুদ্ধে ৩ বলে ২ রান না করার ব্যর্থতা …….. সেখানেও অন্য কিছুর আভাষ আসতে পারে ……… যা শৃঙ্খলার সাথে যুক্তই।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে কাঠের ষ্টাম্পের দিন শেষের ইঙ্গিত দেখা গেল। কাঠের ষ্টাম্পের বদলে এখন কম্পোজিট প্লাস্টিকের উইকেট চালু হল। যেখানে রয়েছে ক্যামেরার সাথে অতি কম শক্তিশালি ব্যাটারি । ফলে বল লাগলেই ষ্টাম্প আর বেলসে আলো জ্বলে, আম্পায়ার তার সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে নিতে এই বিচ্ছরিত আলোর সাহায্য পাচ্ছেন।

sssssssssssssssss
ক্রিকেট আধুনিকিরণ হচ্ছে। ক্রিকেট এখন প্যাকেজ। বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে আমাদের ৩ বলে ২ রান দরকার ছিল। আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল এক রানের। আমাদের প্রথম প্রয়োজন ছিল এক রানের। তাতে ভারতের রানের আমরা সমান সমান হতাম। আমরা ঐ এক রানের চেষ্টা না করে ছয় হাকাতে গেলাম। ওয়েষ্ট ইন্ডিজের শেষ তিন বলে এক রান হলেই জয়ী হয়, কেননা তারা আগেই ‘টাই’ করে ফেলেছে। আমরা যদি ভারতকে জয়ী না হতে দিতাম, তাহলে আজ আমরা আফগানিস্তানের নিচে থাকিনা। ভারতের সমর্থন আকাশ ছোয়া, প্রচার প্রবল, তবে এই বিশ্বকাপে তাদের যে লেজে গোবরে অবস্থা তার জন্য দায়ী তাদেও অতিদানবীয় উপস্থাপন। খেলোয়াড়রা কেউই আর সাধারণ ভাবে নিজেদের ভাবতে না পারার মাশুল দিতে হল আর খেলোয়াড়দের এই অতিদানবীয়তার খেসারত আমরাও দিলাম——-তাই না?

লেখক– জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক,
জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত হকি তারকা ও
রক্তিম সংঘ হকি ক্লাবের সভাপতি।

Rent for add