গোল মিসের খেসারত মোহামেডানের

msc

মাঠে মোহামেডান কিংবা আবাহনীর মত বড় টিম খেলছে, অথচ উত্তাপ নেই-এটা এখন ঐতিহ্যে(!) রূপ নেওয়ার পথে। কেন? সেই উত্তর সবার জানা। মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব অবশ্য এই মৌসুমে একটা স্লোগান তৈরি করতে পারে-‘আসুন ভাই। মাঠে আসুন, গোল মিসের মহড়া কাকে বলে দেখে যান।’স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে এখন পর্যন্ত দলটির তিন ম্যাচ দেখে এমন লিখতেই হচ্ছে। কায়সার হামিদ-সাব্বিরদের উত্তরসূরীরা যা খেলছেন, তাতে সাদা-কালো দর্শকদের আক্ষেপ বাড়ছেই।

স্ট্রাইকাররা বল পেলেই জালে জড়াবেন এমন তো নয়। তারপরও মোহামেডান স্ট্রাইকাররা যা করছেন সত্যিই তা দৃষ্টি কটু। নিজেদের প্রথম ম্যাচে গোল মিসের মহড়ায় হারতে হয়েছিল শেখ জামালের কাছে। পরের ম্যাচে খর্ব শক্তির উত্তর বারিধারার বিপক্ষেও গোল মিসের মহড়া অব্যহত রেখেছিল দলটি। তারপরও ২-০ গোলের যে জয় এসেছিল তাদের, সে জন্য নিজেদের নয় কৃতিত্ব তারা দিতে পারে ভাগ্যকেই। কিন্তু ভাগ্য বিধাতা কি আর সব দিনই আপনাকে উজাড় করে দিতে বসে থাকবেন? আপনাকেও তো চেষ্টাটা করতে হবে। মোহামেডান স্ট্রাইকাররা হয়ত এই জায়গাটাতেই ব্যর্থ। নাহলে টানা তিন ম্যাচে একই ভুলগুলোর প্রদর্শনী হয় নাকি? হলে যা হয় তাই হলো আজ (মঙ্গলবার) মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বিপক্ষে। তুলনায় ভালো খেলেও হারতে হলো ২-১ গোলে।

টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে মোহামেডানের দ্বিতীয় হার এটি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা শেখ জামালের কাছে হেরেছিল ২-০ ব্যাবধানে। দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর বারিধারাকে হারায় ২-০ গোলে। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধার শুরুটাও চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে ২-০ গোলে হার দিয়ে। মোহামেডানের মত নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছিল তারাও। ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে জয়টি ছিল ১-০ ব্যবধানের। দুই ম্যাচে ১ জয় ১ হার। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এই সমীকরন নিয়ে খেলতে নেমেছিল উভয় দলই। অর্থাৎ এই ম্যাচ দুই দলের জন্যই ছিল নিজেদের থেকে এগিয়ে যাওয়ার। সেখানে এক সময়ের পুরোনো দুই শক্তির লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলো মুক্তিযোদ্ধাই।

প্রথম থেকেই গোল মিস দিয়ে শুরু মোহামেডানের। যা অব্যহত রাখতে রাখতে এক সময় নিজেদের জালের গোল করে বসে দলটি। ৭৩ মিনিটে ল্যান্ড্রির আত্মঘাতি গোলে পিছিয়ে পড়ে জসিম উদ্দিন জোসীর শিষ্যরা। ৮২ মিনিটে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড কলো মূসার গোলে ব্যাবধান বড়ায় মুক্তিযোদ্ধা। অমন সময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মোহামেডানের ভাগ্য আসলে লেখা হয়ে গিয়েছিল তখনই। শেষ মূহুর্তে বিশ্বজিৎ ঘোষের নেওয়া কর্ণার কিক থেকে ইসমাইল বাঙ্গুরা দর্শনীয় এক হেডে গোল করলেও পরাজয় এড়াতে পারেননি। বরং বাড়িয়েছেন আফসোস। এত মিস করেছেন এই বিদেশী, যার মধ্যে ৬৫ মিনিটে সজিবের থ্রু-পাস থেকে গোল কিপারকে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি। তাই গোল করেও দর্শকদের মন কতটা পেয়েছেন তিনি তা ভাবনার দাবি রাখে।

পরের ম্যাচেও কি একই ধারা অব্যহত রাখবে মোহামেডান? প্রুতিপক্ষ কিন্তু চট্টগ্রাম আবাহনী।

Rent for add