অল আবাহনী ফাইনাল শনিবার

Logo-Independence-cupনামে এক। তবে ঐতিহ্যের দিক থেকে দল দুটি দুই মেরুতে দাঁড়িয়ে। এই তো এক মৌসুম আগেই পেশাদার ফুটবলে অবনমন বাঁচাতে লড়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী। কিন্তু হঠাৎ করেই বড় বাজেটের দল গড়ার ঘোষণা আসে দলের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে। কথাকে কাজে পরিণত করে ঠিকই বড় দল গড়ে বন্দর নগরীর আবাহনী। গত বছর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টে শিরোপা ঘরে রেখে দিয়ে জানান দেয় নিজেদের আগমনী বার্তা। সেই ধারাবাহিকতায় মৌসুমের সেরা দল গড়ে দলটির স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে ওঠে আসাটা মোটেও চমকানোর কিছু নয়। মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্টের ট্রফি ঘরে তুললেও হয়ত অবাক হবেন না কেউ।
তবে ঠিক এই জায়গাতেই একটু ভাবতে হচ্ছে দলটিকে। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ যে ঢাকা আবাহনী। গত কয়েক মৌসুম ধরে যে দলটির জন্য শিরোপার স্বাদ স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌসুমে বিভিন্ন দলের শক্তির দিক বিবেচনা করলে সেরা তিনেই যায়গা পায় না যে দলটি, সেই আবাহনীই কিনা ওঠে এসেছে মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্টের ফাইনালে। তা শুধুই কি চট্টলার দলটির পথ আটকাতে?

dhaka-akc
২০১০-১১ মৌসুমে শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়ে প্রথম টুর্নামেন্টে এই ঢাকা আবাহনীর কাছেই কাটা পড়েছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের স্বপ্ন। কাকতলীয় হলেও এ মৌসুমে বড় দল গড়ে চট্টগ্রাম আবাহনীকেও প্রথম শিরোপার পরীক্ষা দিতে হচ্ছে ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী দলটির সামনে। সেবার ফেডারেশন কাপে শেখ জামাল হেরেছিল ৫-১ গোলে। অথচ আকাশী-হলুদ শিবির শিরোপা ঘরে তুলবে এমন ভাবনা কোন ফুটবল বোদ্ধার কল্পনাতেও ছিল কিনা সন্দেহ। তবে ঢাকা আবাহনী সেবার প্রমাণ করেছিল দর্শকদের সেই বুলি- ‘জার্সির একটা দাম আছে!’
আগামীকালের (শনিবার) ফাইনালে এই জায়গাটায় আবার দল দুটি মিলে যাচ্ছে এক বিন্দুতে। দুটি দলই যে আকালী-হলুদ প্রতিনিধি। তারপরও চট্টলার আবাহনী কি একটু পিছিয়েই থাকবে?

cht-akc
থাকলে থাকতে পারে। তবে জাহিদ হোসেনদের সেটি নিয়ে ভাবনার সময় কোথায়? মৌসুমে সেরা দল গড়লেও যাদের নিয়ে স্বপ্ন সাজিয়েছে দলটি তাদের মধ্যে পাঁচ ফুটবলার টুর্নামেন্টে খেলতে পারছেন না দলবদল সংক্রান্ত মামলায়। তবে তিন বিদেশী লিওনেল, এলিমন, জানাবিদের নিয়ে মাঠে দুর্দান্ত খেলা উপহার দিয়েছেন জাহিদ হোসেন। টাইব্রেকারে শেখ রাসেলকে হারিয়ে হারানোর পিছনে ছিলেন দলের এই চার তারাকাই।
বিপরীতে একটু চমক জাগানিয়া হলেও প্রথম সেমিফাইনালে সেই ২০১০ সালের ফেডারেশন কাপের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে ফাইনালে ওঠে আসে ঢাকা আবাহনী। গতবারের পেশাদার লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালকে তারা হারায় ৬-০ গোলে। দলের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা একাই করেন চার গোল। তাই এই দলটি যতই কাগজে কলমে পিছিয়ে থাকুক, গ্রুপ পর্বে যতই ড্রর বৃত্তে ঘুরপাক খাক, ফাইনালে যে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকে মাঠে নামবে এটা নিশ্চিত।
আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে চট্টগ্রাম আবাহনীও। তবে একটা জায়গায় কিন্তু একটু হলেও ভাবতে হবে দলটিকে। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে শক্তিতে অনেক পিছিয়ে থাকা মোহামেডানের কাছে ১-৫ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল দলটি। পেশাদার লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের সঙ্গেও ড্র হয়েছিল তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। শেখ রাসেলের বিপক্ষে টাইব্রেকার নামক ভাগ্যের খেলায় জিতলেও বড় দলগুলোর সামনে এখনও নিজেদের দাপট প্রমাণ করেতে পারেনি বঙ্গবন্ধু ক্লাব কাপের চ্যাম্পিয়ন দলটি।
শনিবারের ফাইনালে তাই শুধু আবাহনী নয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়তে জয় করতে হবে অনেক কিছুই। সেটি পারলে আবার শুধু ট্রফি নয়, অনেক অর্জন নিয়েই ঘরে ফিরতে পারবে দলটি।
এত সব হিসেব নিকেশের মধ্যে অলআবাহনী ফাইনাল তাই ভিন্ন আবহ নিয়েই হাজির হচ্ছে।

Rent for add