‘মুস্তাফিজ’ রহস্য উন্মোচন!

mustafizপরপর দুই ম্যাচে উইকেট শুন্য মুস্তাফিজ। উইকেট শুন্য থাকতেই পারেন একজন বোলার। কিন্তু বোলারের নামটি যখন মুস্তাফিজুর রহমান, তখন আপনার ভুরু কুঁচকে যাওয়াটা অস্বাভাবিক না! সেটা আরো অবাক শোনাবে যখন জানবেন এ দুটি ম্যাচের মধ্যে প্রথমটিতে মিতব্যায়ী থাকলেও দ্বিতীয় ম্যাচে মুস্তাফিজ ৪ ওভারে গুনেছেন ৩৯ রান। যা আইপিএলে এখনও পর্যন্ত মুস্তাফিজের সবচেয়ে খরুচে বোলিং। তবে কি মুস্তাফিজ রহস্যের উৎঘাটন করে ফেললো পুনে সুপারজায়ান্টস আর ডিল্লি ডেয়ারডেভিলসের ব্যাটসম্যানরা?

সে দাবি অবশ্য এখনো সরাসরি করেনি কোন দলই। তবে পুনের কোচ স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের ‘মুস্তাফিজ রহস্যের চাবিকাঠি’ পাওয়ার দাবি কিংবা চোটে পড়ার আগে অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ কিংবা অশ্বিনের স্বচ্ছন্দে মুস্তাফিজকে খেলার কথা মাথায় রাখলে, গতকাল রাতে দিল্লির বিপক্ষে তার খরুচে বোলিংটা আরেকবার ভাবাবে আপনাকে। পুনের সাথে আগের ম্যাচে উইকেট না পেলেও রানের চাকাটা ধরে রেখেছিলেন মুস্তাফিজ। উনিশতম ওভারে তার মিতব্যায়ী বোলিংটাই হায়দারাবাদের জয়ে রেখেছিল বড় ভূমিকা। অথচ গতকাল সেই মুস্তাফিজের দ্বিতীয় ওভারে ম্যাচের লাগাম অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিল হায়দারাবাদ। ৪২ বলে ৫৩ রান দরকার ছিল দিল্লির জয়ের জন্য। মুস্তাফিজ ওই ওভারে দিলেন ১৪ রান। দিল্লির ব্যাটসম্যান ঋষভ পান্ট একাই নিলেন ১২ রান। পরের ওভারে মুস্তাফিজ ৩ রান দিলেও ম্যাচ ততক্ষনে দিল্লির নিয়ন্ত্রণে।

শেষ ওভারেও অবস্থাটা পাল্টালো না। ম্যাচের মোড় ঘোরানো কোন চমক দেখাবেন কি, লেগ সাইডে দুটো লো ফুলটস দিয়ে ওই ওভারে রান দিলেন ১৩। সবমিলিয়ে ৪ ওভারে ৩৯ রান খরচ করা মুস্তাফিজের বল থেকেই ২৬ রান নিলেন  ঋষভ পান্ট। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই যার বলে ব্যাট ছোঁয়াতে সংগ্রাম করতে হয়েছে ব্যাটসম্যানদের, তাকে এমন অবলীলায় কিভাবে খেললেন দিল্লির ব্যাটসম্যানরা?

ম্যাচ সেরা দিল্লির অলরাউন্ডার ক্রিস মরিস অবশ্য জানিয়েছেন মুস্তাফিজের বল নিয়ে তাদের ময়নাতদন্তের গল্প, ‘আমরা অবশ্যই বেশ কিছু সময় নিয়েছি। কীভাবে স্টিভেন স্মিথ ওকে খেলেছে সেটা দেখেছি। আগের ম্যাচে অশ্বিন ওকে কীভাবে খেলেছে সেটাও লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে ডানহাতিদের জন্য’ উল্লেখ্য, পুনের বিপক্ষে ম্যাচে মুস্তাফিজের বল থেকে আসা একটামাত্র চার মেরেছিলেন অশ্বিন। তাকে ঘিরে মুগ্ধতার কথাও জানাতে ভোলেননি মরিস, ‘মাত্র ২০ বছর বয়সেই সে এক অবিশ্বাস্য এবং ভয়ংকর বোলার হয়ে উঠেছে। আইপিএলে প্রথমবার খেলতে এসেই সে দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে। তাকে আটকাতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে, পর্দার পেছনে হাজারো পরিকল্পনায় মাথা খাটাতে হচ্ছে। আমাদের সৌভাগ্য, আমাদের করা পরিকল্পনাগুলো ম্যাচে কাজে এসেছে।’

মরিস খুব একটা ভুল বলেননি। মুস্তাফিজ রহস্যের উত্তর যে ভাগ্যের উপরেও নির্ভর করে অনেকটা।