বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ ড্র

aus

ঢাকা টেস্ট জিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বপ্নও দেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সিরিজ জয় হলো না। ব্যাটসম্যানদের অসহায়ত্বে দ্বিতীয় টেস্ট হেরেছে টাইগাররা। ১-১ এ সমতায় শেষ হলো দুই টেস্টের সিরিজ। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম টেস্টের একদিন হাতে রেখেই সফরকারীরা জিতেছে ৭ উইকেটে।

টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল দলের সঙ্গে সিরিজ ড্র অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্ট ৭ উইকেটে হেরে গেলেও সিরিজ থেকে টাইগারদের প্রাপ্তি কম নয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তারা ভয় পায়নি, লড়াই করেছে সমানে সমানে।

ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার পর অস্ট্রেলিয়াও টেস্টে হার মেনেছে বাংলাদেশের কাছে। এটা নিঃসন্দেহে ‘বড়’ দলগুলোর জন্য সতর্ক সংকেত। ওয়ানডের পর টেস্ট ক্রিকেটেও টাইগারদের উত্থান আর অস্বীকার করার উপায় নেই। আগামীতে টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা বাড়তেও পারে সাকিব-তামিম-মুশফিকদের।

চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মোস্তাফিজের বোলিং। গত কিছু দিনের বিবর্ণ পারফরম্যান্স পেছনে ফেলে চট্টগ্রামে দারুণভাবে জ্বলে উঠেছেন ‘কাটার মাস্টার’। প্রথম ইনিংসে চারটির পর দ্বিতীয় ইনিংসে তার শিকার একটি। সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান ওয়ার্নারকে দুবারই তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন আর দুটোই চমৎকার খাটো লেন্থের বলে। মুস্তাফিজ জানিয়েছেন, ব্যাটসম্যানরা কাটারের ‘রহস্য’ ভেদ করে ফেলায় নতুন অস্ত্র দিয়ে নিজেকে শাণিত করার চেষ্টা করছেন তিনি। চট্টগ্রাম টেস্টে ‘নতুন’ মোস্তাফিজকে আবিষ্কার বাংলাদেশের বিশাল প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে।

ঢাকার সাফল্য দেখে চট্টগ্রামেও টাইগারদের চাহিদা অনুযায়ী উইকেট বানানো হয়েছিল। স্লো এবং টার্নিং উইকেটে টসও জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টস জেতার সুফল কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ৩০৫ রানে, আর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৫৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যর্থতাই হারের প্রধান কারণ।

চট্টগ্রামে হারের পেছনে অফস্পিনার নাথান লিওনের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তার শিকার ৬টি। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে কোনও স্পিনারের এটাই সেরা সাফল্য। ম্যাচে ১৫৪ রানের বিনিময়ে ১৩ উইকেট নেওয়া লিওন প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে দারুণ এক কীর্তিও গড়েছেন।

অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের স্পিনাররা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। সাকিব, মিরাজ আর তাইজুলকে নিয়ে গড়া স্পিন আক্রমণ চেপে ধরতে পারেনি অতিথি ব্যাটসম্যানদের। লিওন টার্ন আর বাউন্সে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের ব্যতিব্যস্ত করে রাখলেও স্বাগতিক স্পিনাররা সেভাবে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ। তাই প্রথম ইনিংসে ৭২ রানের লিড নিয়ে জয়ের পথে অনেকখানি এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া।

ঢাকায় বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তামিম আর সাকিবের। শুধু মিরপুর টেস্ট কেন, গত এক দশকে টাইগারদের সাফল্যে দুই তারকার বিশাল অবদান। তবে চট্টগ্রামে দুই বন্ধুই ব্যর্থ। দুই ইনিংসে তামিমের রান ৯ আর ১২। অন্যদিকে ২৪ আর ২ রান করা সাকিব বোলিংয়েও জ্বলে উঠতে পারেননি। ম্যাচে ১১৭ রান খরচ করে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের শিকার মাত্র ২ উইকেট।

মূলত দ্বিতীয় ইনিংসে ছন্নছাড়া ব্যাটিং ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে বাংলাদেশকে। মাত্র ৮৫ রানের পুঁজি নিয়েও টাইগাররা কিন্তু ভালোই লড়াই করেছে। দিনশেষে তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে আক্ষেপ। কে জানে, আরও ১০০ রান করতে পারলে চট্টগ্রাম টেস্টের চিত্রনাট্য হয়তো ভিন্ন হতো। হারের বেদনা নয়, জয়ের উৎসবে মেতে উঠতো পুরো বাংলাদেশ!

Rent for add