ক্যাচ ছাড়ার পর ৩২ কোটি গালি খেয়েছিলেন তামিম

tamim-iqbal-daily-sunবাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে ঘরে বন্দি থাকা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ মানুষদের বিনোদন দিতে ও খেলোয়াড়দের সাথে টিম স্পিরিট বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন নিয়মিতই লাইভ করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এবার তার সাথে ছিলেন দুই পেসার রুবেল হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। তবে অল্প সময়ের জন্য যোগ দেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। তাতে আড্ডা বেশ জমে উঠে এবং অনেক মজার মজার অজানা ঘটনাও জানতে পারেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

ক্রিকেট মাঠে ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে আউটের পর রুবেলের উল্লাসটা বেশিই থাকে। কোহলিকে আউটের রুবেলের এমন উল্লাসের কারণটা জানতে চেয়েছিলেন তামিম। রুবেল বলেন, ‘আমি ও কোহলি এক সাথে অনূর্ধ্ব-১৯ খেলেছি। অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে তার সাথে দ্বন্দ্ব লেগে আছে আমার। অনূর্ধ্ব-১৯ এ অনেক বেশি স্লেজিং করতো কোহলি। জাতীয় দলে হয়তো একটু কম স্লেজিং করে। কিন্ত অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকতে প্রচুর স্লেজিং করতো। এমনকি গালিও দিতো কোহলি। ঐ আসরে তার সাথে খারাপ একটা ঘটনা ঘটেছিল আমার। আমি ওকে আউট করার পর গালি দিয়েছিলাম। ঐ ঘটনার পর থেকে তার সাথে আমার দ্বন্দ্ব চলছে।

এরপর তাসকিনকে অতীতে একটি স্মৃতি মনে করিয়ে তামিম বলেন, ‘আমরা খুলনায় টি-২০ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির ক্যাম্পে ছিলাম।’ তাসকিনকে একদিন রুমে ডেকে অনেক কথা বলেছি। তাকে বুঝিয়েছি অনেক কিছু। তাসকিনও মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনলো। আমার কথা শুনে তাসকিন বললো, ভাইয়া এভাবে করে তো আমাকে কেউ কখনো বোঝায়নি। ‘তাসকিন যখন এসব কথা শুনে চলে গেল তখন নিজেকে নিয়ে খুব গর্বিত মনে হয়েছিল। মনে হচ্ছিল, একটা ভালো কাজ করেছি। একটা ছেলেকে বোঝালাম। নিশ্চয়ই আমার কথা কিছু হলেও তার কাজে দিবে।

তাসকিন ও রুবেলের সাথে নাসিরকে লাইভে নিয়ে আসেন তামিম। তাসকিন ও রুবেলের সাথে নাসিরের দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক। নাসিরের কাছে তাসকিন ও রুবেলের সাথে মজার ঘটনা জানতে চান তামিম। নাসিরকে তামিম জিজ্ঞাসা করেন, রুবেলের সাথে প্রথম কবে দেখা হয়েছিলো? নাসির হাসতে হাসতে বলেন, সেটি একটি মজার ঘটনা। নাসির বলেন, ‘মিরপুরে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনুশীলনে সেন্টার উইকেটে ব্যাট করতে আমি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। হঠাৎ রুবেল এসে আমাকে বলে, ভাইয়া আমি কি এখানে বসতে পারি। আমি তাকে বলি, হ্যাঁ তুমি বসতে পারো। এরপর তো আস্তে আস্তে আমরা ভালো বন্ধু।

তামিম হাসতে হাসতে বলেন, ‘আগে আমি সব সময় নাসিরের সঙ্গে ক্যাচ নিয়ে মজা করতাম। ক্যাচ মিসের ঘটনাটা যে আমার সাথেই ঘটবে, তা আমি কখনোই বুঝতে পারিনি। ওকসের ক্যাচটা যখন ছেড়েছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল মাটি দুই ফাঁক হয়ে যাক, আমি মুখ লুকাই। আমাকে আর কারও দেখার দরকার নেই। আর ঐ ক্যাচ ছাড়ার পর এক সাথে আমি ৩২ কোটি গালি খেয়েছি, এটা নিশ্চিত। কারণ বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষ একটা করে গালি দেয়নি, সকলে দু’টো গালি আমাকে দিয়েছেই।’

ঐ ক্যাচ ছাড়ের পর রুবেলই নাকি তামিমকে বাঁচিয়েছেন, ‘ম্যাচ পর সবাই জয়ের জন্য রুবেলের পেছনে দৌঁড়েছে। আর আমি রুবেলের পেছনে দৌঁড়েছি বেঁচে যাওয়ার আনন্দে। যদি ওই ম্যাচ হারতাম আমার আর দেশে আসা হতো না। ঐ ক্যাচ ফেলে দেয়ার পর ড্রেসিংরুমে কান ধরে প্রতিজ্ঞা করেছি ক্যাচ নিয়ে সতীর্থদের সাথে কোন মজা করবো না।

তারপরও বিশ্বকাপের ম্যাচে কেন ক্যাচ মিস করি, আমি বুঝতেছি না। ২০১৯ বিশ্বকাপেও রোহিত শর্মার ক্যাচ ফেলেছি। যাই হোক, ২০২৩ বিশ্বকাপ যদি খেলতে পারি ইনশাআল্লাহ সব পুষিয়ে দিবো।’