This site is under develop. contact click here

নিজেকে অলিম্পিকের মঞ্চে দেখতে চান আর্চার ইতি

98204785_2842245529395233_5754923595847434240_nদক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ক্রীড়া উৎসবে সাফল্য পাবার পর আর্চার ইতি খাতুন ভবিষ্যতে নিজেকে অলিম্পিকের মঞ্চে দেখতে চান। সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি এখন কঠোর অনুশীলনে সময় পার করছেন।

২০১৯ সালে নেপালের পোখরায় এসএ গেমসের আর্চারি ডিসিপ্লিনে ইতি ব্যক্তিগত, নারী দলগত ও মিশ্র দলগত ইভেন্টে তিন তিনটি স্বর্ণ জয়ের পর রাতারাতি তারকা বনে যান। শুধু তাই নয়, সে সাথে তিনি দেশীয় ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিতি মুখ হয়ে উঠেন।

১৫ পেরুনোর আগেই চুয়াডাঙ্গার এ মেয়ের এমন সাফল্য আগামীতে দেশকে আরো বড় সাফল্য এনে দেবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

ছোট্টবেলা থেকেই ইতির খেলাধুলায় হাতেখড়ি। স্কুলে তার প্রিয় ডিসিপ্লিন ছিলো অ্যাথলেটিকস। দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্পে বরাবরই প্রথম হতেন। ইতি অ্যাথলেটিকসের পাশাপাশি হ্যান্ডবলও খেলতেন।

তবে আর্চারির সাথে তার সখ্য গড়ে উঠে ২০১৬ সালে। আর এর তিন বছর পরই তিনি হয়ে উঠেন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আর্চার।

নিজ জেলায় আর্চারির তৃণমূল বাছাই প্রতিযোগিতা থেকেই ইতি জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসেন। সুযোগ মেলে প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্পে অংশ নেয়ার। আর এ প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্প থেকে্ই রাতারাতি সম্ভাবনাময়ী আর্চার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেন। সেই থেকেই তার ধ্যানধারণা আর্চারিকে ঘিরে।

দরিদ্রতার মাঝে বেড়ে উঠা সফল ইতি এখন পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো অর্থ যোগান দিচ্ছে। বাবা মো. ইবাদত আলী অন্যের হোটেলে কাজ করে সংসার চালান। স্ত্রী, তিন মেয়েকে নিয়ে অভাবের সংসার। সেই সংসারে চাঁদের আলো হয়ে ফোটেছেন ইতি। খেলাধুলার মাধ্যমে ইতি পরিবারের ভাগ্য বদলিয়েছেন।

তাই তো ইতি সাহস করে এখন বলতে পারেন, ‘বাবা অন্যের হোটেলে কাজ করেন। অনেক কষ্ট করেন। এটা দেখতে আমার অনেক কষ্ট হয়। আমি চাই না আব্বু আর এতো কষ্ট করুক। তাই ঠিক করেছি বাবাকে একটা হোটেল করে দেব।’

তিন বোনের মধ্যে ইতি মেঝো। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট বোন স্কুলে পড়ে। সংসারে দারিদ্র কষ্ট থাকলেও বাবা-মা সেটি বুঝতে দিতেন না ইতিদের, ‘আমি কষ্ট করেই বড় হয়েছি। তবে পরিবারের কথা যদি বলেন, খেলাধুলায় বাবা-মা আমাকে কখনো বাধা দেননি।’