অনলাইনে বাঘ মারছেন সেই দাবাড়ু

103530959_942166109541025_4তিনি একজন দাবা প্রিয় মানুষ। খেলতে যেমন ভালবাসেন ঠিক তেমনি খেলা দেখতেও ভীষণ পছন্দ করেন। আর দাবা বোর্ডে নিজের চেয়ে একটু শক্তিশালী প্লেয়ার পেলে কী যে খুশি হন ! তখন তার কাছে ওই প্লেয়ারই বাঘ হয়ে উঠেন। কতক্ষণে তিনি তাকে ঘায়েল করবেন এই নিয়ে তার রাজ্যের চিন্তা।

জিতে গেলে তো কথাই নেই। সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে দারুণ স্ট্যাটাস, আজ এক বাঘ শিকার করলাম। হেরে গেলেও স্ট্যাটাস, একটুর জন্য বাঘটা ধরতে পারলাম না। এতোক্ষণে হয়তো দাবাপ্রেমীরা নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন কার কথা বলছি। হ্যাঁ, তিনি মো. আসাদুজ্জামান।তার প্রিয় অঙ্গনে সবাই আসাদ ভাই নামেই বেশি চেনেন।

পেশায় তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুপার। একজন আধুনিক কবি হিসেবেও তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি একজন আন্তর্জাতিক রেটেড দাবাড়ুও বটে। দাবার বাইরে টেনিস ও টেবিল টেনিসে দারুণ দক্ষ। বর্তমানে তিনি এসোসিয়েশন অব চেস প্লেয়ার্স বাংলাদেশ এর সিনিয়র সহসভাপতি। নানা গুণে গুণান্বিত এই বাঘ শিকারীই হলেন মো. আসাদুজ্জামান।

চৌষট্টি খোপের দাবার জমিনে এই বাঘ শিকারী এখন আর দাবা বোর্ডে বাঘ শিকার করতে পারছেন না। প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস তার বাঘ শিকারের শখ কেড়ে নিয়েছে। গত মার্চ থেকে দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। ফলে সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক দাবা থমকে আছে। কিন্ত তিনি থেমে নেই।

দাবা বোর্ড ছেড়ে বাঘ শিকারী আসাদুজ্জামান এখন অনলাইনমুখি হয়ে পড়েছেন। অনলাইনভিত্তিক দাবা টুর্নামেন্টেই তিনি ছোট্ট-বড় বাঘ খুঁজতে শুরু করেছেন। মাঝে মাঝে তা পেয়েও যাচ্ছেন। এখন তিনি অনলাইন দাবায় শুধু বাঘ শিকারই করছেন না। সেই সঙ্গে দারুণ সাফল্য দেখাতে শুরু করেছেন। ঢুকে যাচ্ছেন প্রাইজ লিস্টের তালিকায়ও।

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের চ্যাম্পিয়ন মো. আসাদুজ্জামান শুধু স্ট্যান্ডার্ডেই নয়, বুলেট এবং ব্লিটজেও ভালো দক্ষতা দেখাচ্ছেন। ঈদের দিন অনলাইনে চেস.কম_এ ৩ মিনিটের ব্লিটজ টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দেশের ৩৩৩ জন খেলোয়াড়দের মধ্যে পঞ্চম হয়ে ঘরোয়া দাবায় দরুণ হৈ চৈ ফেলে দেন। পেশাদার না হয়েও শত ব্যস্ততার মাঝে তার এমন ফলাফল সত্যিই অবিশ্বাস্য।

শুধু তাই নয়, ফিদে আয়োজিত চেস.কম_এ করোনাভাইরাস চেকমেট অনলাইন দাবার বুলেট এরেনার এক ঘন্টার টুর্নামেন্টে প্রতি গেম ২ মিনিট ও প্রতি চালে ১ সেকেন্ড ইনক্রিমেন্টে বিভিন্ন দেশের ৩৬৩ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে পঞ্চম হয়েছিলেন। ইন্টারনেট সার্ভার সমস্যাজনিত কারণে একটি গেম ভালো পজিশন থেকে হেরে না গেলে হযতো শিরোপাই পেয়ে যেতে পারতেন।

তবে উত্তরা সেন্ট্রাল চেস ক্লাব আয়োজিত অনলাইনে চেস.কম_এ এক আন্তর্জাতিক র‌্যাপিড ১০।২ দাবা টুর্নামেন্টের ৭ ম্যাচে সমান ৫.৫ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়নের পয়েন্ট নিয়ে পুরস্কৃত হয়েছেন। ৫৬ বছর বয়সে ডায়াবেটিস নিয়ে পেশাদার খেলোয়াড়দের সাথে তার এমন পারফরম্যান্সে তিনি নিজেও মুগ্ধ।

তাই পুরস্কার পেলে দাবা নিয়ে তার উপলদ্ধি আন্তর্জাতিক মানের বড় পরিসরের টুর্নামেন্টে ভালো ফলাফলে আমি বেশ আনন্দ পাই। এমন মিলনমেলায় নিজেকে মেলে ধরাটাকেও তিনি সফলতা মনে করেন। খেলা নিয়ে নিজের মূল্যায়নে তিনি মনে করেন এতোদিনে অন্তত ফিদেমাস্টার টাইটেল পেতাম। কিন্ত অন্যদিকে আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যেতো। একদিকে চাকুরী তাছাড়া রয়েছে ডায়াবেটিস। তাই আমাকে অনেক বুঝে শুনে পা ফেলতে হয়। তবুও এ অবস্থা থেকে আমি দুটি দাবা ক্লাবেরও প্রতিষ্ঠাতা। চাকুরী, দাবা, সংসার সব নিয়ে মোটামুটি ভালো একটা মানে, সুনামে থাকতে পারলেই নিজেকে সুখি মনে করি।

Rent for add