মুজিববর্ষ ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

মুজিববর্ষ ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ সিরিজ জয় করেছে। দুই ম্যাচ সিরিজের এ লড়াইয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ ১৩ নভেম্বর প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে হিমালয়কন্যাকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে যায়। এর পর ১৭ নভেম্বর দ্বিতীয় তথা সিরিজের শেষ ম্যাচে লাল-সবুজের দল নেপালের সাথে গোল শূন্য ড্র করে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ ১৭ নভেম্বর দুটি পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিলেন জেমি ডে’র অনুপস্থতিতে দায়িত্ব পাওয়া সহকারী কোচ স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস। নেপালের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হওয়া গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর পরিবর্তে এ দিন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাকে সুযোগ দেয়া হয়। অন্যদিকে ডিফেন্ডার রিয়াদুর হাসানের পরিবর্তে প্রথম একাদশে রাখা হয়েছিল ইয়াসিন খানকে।

অপরদিকে সফরকারী নেপাল আগের ম্যাচের সেরা একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন আনে। তারপরও প্রথমার্ধে বাংলাদেশের সাথে ততটা সমান তালে লড়তে পারেনি। মাঠে বল গড়ানোর মাত্র ২ মিনিটেই সাদ উদ্দিনের চমৎকার আক্রমণ গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু তার ক্রস নেপালের গোলরক্ষক কিরন কুমার লিম্বু কোনোরকমে তালুবন্দী করেন। পাল্টা আক্রমণে অবশ্য তেজ তামাংয়ের দূরপাল্লার শট সহজেই লুফে নেন স্বাগতিক গোলরক্ষক রানা।

নেপালের বিপক্ষে লেফট উইংয়ে মোহাম্মদ ইব্রাহিম অনেকটা নিষ্প্রভ থাকায় রাইট উইং দিয়ে সাদ উদ্দিনের বদৌলতেই লাল-সবুজের দল অধিকাংশ আক্রমণ আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। তারই ধারাবাহিকতায় ২৩ মিনিটে জীবনের ছোট পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে সুমন রেজার দুর্দান্ত শট ক্রসবার ঘেষে বাইরে চলে যায়। ৩০ মিনিট সম্ভাব্য একটি গোলের উৎস সৃষ্টি করলেও চমৎকার সুযোগ থেকে জীবনের ক্রসের বলে দুর্বল শটে হতাশ করেন সুমন।

দ্বিতীয়ার্ধেও স্বাগতিক বাংলাদেশ গোল আদায়ে মরিয়া ছিল। কিন্তু নেপালের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় তা সম্ভব হচ্ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে বল মাঠে গড়ানোর পর পর দুটি আক্রমণ থেকেও সফল হতে পারেনি জামাল ভুঁইয়ার দল। তবে প্রথমার্ধের চেয়ে এ অর্ধে নেপাল বেশ কয়েকটি জোরালো আক্রমণ পেয়েছিল। কিন্তু তারাও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

শুধু তাই নয়, ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে নেপালের বেশকিছু আক্রমণ বাংলাদেশের ভীত নড়িয়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে একটি আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন গোলরক্ষক রানা। তবে অপর আক্রমণ ভাগ্যদেবীর সহায়তায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। নেপালের সেই আক্রমণটি সাইডবারে লেগে ফিরে যায়। অবশিষ্ট সময়ে কেউ কারো জালে বল জড়াতে না পারায় ম্যাচটি গোল শূন্য ড্র হয়।