ক্যাসিনোকাণ্ডে বন্ধ ক্লাবগুলো খুলতে ক্রীড়ামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

ক্যাসিনোকাণ্ডে দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ থাকা ক্লাবগুলো ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনে ফিরতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে। কিন্তু ক্লাবগুলো খোলার বিষয়ে কোনোরকম ফয়সালা না হওয়ায় এ বিষয়ে খুব শিগগিরই যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি’র দারস্থ হতে যাচ্ছেন ক্লাব কর্মকর্তারা।

শুধু তাই নয়, ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ক্লাবগুলো ভবিষ্যতে আর কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে না- এ মর্মে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দিতেও সংশ্লিষ্ট ক্লাবের কর্মকর্তারা সম্মত হয়েছেন। যদিও ক্যাসিনো সম্পৃক্ততায় ওইসব কর্মকর্তাদের কারোর নাম আসেনি। তবুও তারা খেলাধুলার স্বার্থেই এগিয়ে এসেছেন।

বর্তমানে ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। ক্লাবের বন্ধ তালা খুলতে ক্রীড়াপ্রেমী কর্তকর্তারা অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছেন। এমন কী উপরের মহল থেকে তারা আশ্বাসও পেয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই ঘরোয়া মৌসুমকে ঘিরে নতুন করে তারা আবারো সমন্বিত উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন। প্রথমেই তারা দারস্থ হতে চান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর।

ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবের অন্যতম সহসভাপতি সৈয়দ রিয়াজুল করিম বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু কাজ হয়নি। তাই সবাই মিলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উনি যেভাবে আমাদের নির্দেশনা দেবেন সেটা মেনেই আমরা চলবো।’

এদিকে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এজাজ মো. জাহাঙ্গীর জানান, ‘ক্লাবগুলো বন্ধ থাকায় ঠিক মতো ক্রীড়া কার্যক্রম চালাতে পারছি না। যা অত্যন্ত দু:খজনক। যদি ক্লাবগুলো খুলে না দেয় তাহলে হয়তো সামনের দিনে আর খেলা চালিয়ে যেতে পারবো না।’

অপরদিকে দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালাউদ্দিন রতন বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা আন্ডারটেকিং দেবো। ক্লাবে আর কেউ কোনো অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। সেটা কেউ করলে আমরা নিজ উদ্যোগে তাকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে সোপর্দ করবো।’

এছাড়া ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সহসভাপতি খেলাফত হোসেন বেগ বলেন, ‘ওয়ান্ডারার্স অনেকগুলো খেলা চালায়। সেখান থেকে অনেক খেলোয়াড় তৈরি হয়। কিন্তু ক্লাবগুলো না খুললে সেটা আর সম্ভব হবে না। ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থেই ক্লাবগুলো এখন খুলে দেয়া উচিত।’