মাশরাফিই ক্রিকেটারদের অভিভাবক

213541_mashবাংলাদেশ ক্রিকেটে একটি নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা। যিনি টাইগার দলের খেলোয়াড়দের সবসময়ই সমর্থন করেন আর ছায়ার মত আগলে রাখেন। মাশরাফির এমন ভালোবাসা আজো ক্রিকেটাররা মনেপ্রাণে স্মরণ করেন।

সেই সাকিব আল হাসানের মত বড় তারকা থেকে শুরু করে একালের মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন পর্যন্ত সবাই মাশরাফির সমর্থন পেয়েছেন।

ফেসুবক পেইজে লাইভ আড্ডায় তামিম ইকবাল বলেন, ‘সে সত্যিকারের একজন কিংবদন্তি এবং সফল অধিনায়ক। বাংলাদেশ কখনো তার মত এমন অধিনায়ক পাবে না।’ লাইভ অনুষ্ঠানে তামিম মাশরাফির অবদানকে স্বীকার করেন।

তামিম তার প্রথম লাইভ শো করেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের সাথে। পাঁচ বছর আগে মুশফিক মুদ্রার উলটো-পিঠ দেখেছিলেন। যখন সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে অন্যের কাছে মুশফিককে নিয়ে অভিযোগ করতেন।

একমাত্র মাশরাফিই ঐ সময় মুশফিকের পাশে ছিলেন এবং তাকে পুরোপুরি সমর্থন করেছিলেন। সে সময় মনে হয়েছিল হাথুরুসিংহে তাকে দল থেকে বাদ দিতে পারেন। কিন্ত আগলে রেখেছেন মাশরাফি।

মুশফিক বলেন, ‘কোন চিন্তাভাবনা না করেই মাশরাফি সবসময়ই ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়ান। তার সেই সাহস আছে এবং সবসময় দলকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।’

তামিম বেশ কয়েকবারই বলেছিলেন, তার ক্যারিয়ারের পেছনে মাশরাফির ভূমিকা কতটুকু। তিনি বলেন, ‘কেউই তার মত না। কখনও কখনও মনে হয়, তিনি ভিন্ন গ্রহ থেকে এসেছেন। তিনি যেভাবে ভাবেন, যেভাবে একজন খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়ান, তা সত্যিই অসাধারণ। তিনি যদি ভাবেন কারও সম্ভাবনা আছে, তিনি তাকে সমর্থন করা থেকে পিছপা হন না।’

এদিকে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে মাশরাফির সমর্থন পেয়েছেন বলে মনে করছেন বাংলাদেশ দলের আরেক সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুুদুল্লাহ রিয়াদ। ২০১৯ বিশ্বকাপে মাহমুদুল্লাহকে বাদ দেয়ার কথা উঠেছিল। সেখানেও হস্তক্ষেপর করেন মাশরাফি। মাহমুদুল্লাহর পক্ষে কথা বলেন তিনি।

অপরদিকে গত বিশ্বকাপে তিন নম্বরে ব্যাট করার কথা বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টকে বলেছিলেন সাকিব। কিন্ত টিম ম্যানেজমেন্টে সাকিবকে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে রাজি ছিল না। এমনকি তামিমও চাননি সাকিব তিন নম্বরে ব্যাট করুক। সবাই চেয়েছিল সাকিব মিডল-অর্ডারে ব্যাটিং করুক। একমাত্র মাশরাফিই সাকিবের ইচ্ছার পক্ষে সমর্থন করেন। টিম ম্যানেজমেন্ট ও খেলোয়াড়দের বিপক্ষে গিয়ে সাকিবকে তিনে ব্যাট করার সাহস দেন ম্যাশ।

তামিম বলেন, মাশরাফিই প্রথম চিন্তা করেছিলেন কোন খেলোয়াড়রা তামিম, মুশফিক, সাকিব ও মাহমুদুল্লাহর স্থান নিতে পারেন। তিনি বলেন, ‘লিটন, সৌম্য, সাইফউদ্দিনের মধ্যে সেই সম্ভাবনা পেয়েছিলেন মাশরাফি। পুরোপুরিভাবে তাদের সমর্থনও দিয়েছিলেন।বাসস।