সত্যি কথা বলাই দোষ : ইউনিস

Unis-Khanইচ্ছা করে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা খারাপ খেলে এমন সত্যি কথা বলার জন্যই অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন বলে জানালেন দেশটির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ইউনিস খান। তিনি বলেন, ‘আমি দলের ভালোর জন্য, দলের উন্নতির জন্য যা বলতাম, তা সবার ভালো লাগতো না। তাই বিশ্বকাপ জয়ের পর আমাকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।’

১৯৯২ সালে ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান ওয়ানডে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে পাকিস্তান। লর্ডসের ফাইনালে শ্রীলংকাকে ৮ উইকেটে হারায় ইউনিস খানের নেতৃত্বাধীর পাকিস্তান ।

কিন্ত ঠিক ছ’মাস পর অধিনায়কের পদ থেকে ইউনিসকে সরিয়ে দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপ জেতার পর এত দ্রুত ইউনিসকে অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার কারণ কি ছিল, এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়া হয়েছিল ইউনিসকে।

স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ইউনিস বলেন, ‘জীবনে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন আপনাকে হতে হবে, যখন সত্যি কথা বললে মানুষ মনে করবে, আপনি উন্মাদ, তাই ভুল বলছেন। আমি বলেছিলাম, কয়েকজন ক্রিকেটার দেশের হয়ে খেলার সময় নিজের সেরাটা দিচ্ছে না। খেলার প্রতি কিছু খেলোয়াড়দের আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়া দরকরা। এমন কথা বলাতেই আমার দোষ হয়ে যায়। কোন কারণ ছাড়াই আমাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।’

যাদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ইউনিস, তাদের সাথেই পরবর্তীতে আরো অনেক ম্যাচ খেলেছেন ইউনিস। আর সত্য কথা বলাটা তার বাবার কাছ থেকে শিখেছেন বলে জানান ইউনিস। তিনি বলেন, ‘যাদের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেছিলাম, সেই সব ক্রিকেটাররাই পরে নিজেদের ভুলটা বুঝতে পারে। তার পরেও আমরা একসঙ্গে খেলে গিয়েছি। আমি জানতাম, আমি ভুল কিছু বলিনি। সব সময়ে সত্যি কথা বলতে হবে, এটা আমি আমার বাবার কাছ থেকে শিখেছিলাম।’

সত্য কথা বলায় পাকিস্তান দলে টিকে থাকার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে বলেও জানান ইউনিস। তিনি বলেন, ‘আমি যদি অনেক বড় ইনিংস না খেলতাম, তবে আমার ক্যারিয়ার এত বড় হতো না। কারণ আমি সত্য বলায়, অনেকেই আমার বিপক্ষে ছিল। আমাকে দল থেকে বাদ দিতে উঠে পড়ে লেগেছিল। কিন্ত বেশ কিছু বড় বড় ইনিংস খেলায়, নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারি।’

Rent for add