ফিজের প্রশংসায় নান্নু

Mustafizurমুস্তাফিজুর রহমান এই মুহূর্তে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই কিছুটা অনিয়মিত। তারপরও বাংলাদেশ দলে তাকে এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

ইনজুরির কারণে আগের সেই ধারালো বোলিংয়ে কিছুটা চিড় ধরলেও এখনো তার যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে। মিনহাজুলের মতে ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত এই ক্রিকেটারের এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আছে।

তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজ এখনো বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমার মতে দলকে দীর্ঘ সময় ধরে সার্ভিস দেয়ার মত সামর্থ্য ও দক্ষতা তার মধ্যে রয়েছে। সে এখনো বয়সে তরুণ। নিজের দক্ষতা আরো বাড়ানোর জন্য সে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।’

নিজের কার্টার ও স্লোয়ার বোলিংয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী রহস্যময় বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন ফিজ। বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচরাও বল নিয়ে খেলা করার বিভিন্ন কৌশল শিখিয়ে দিচ্ছেন তাকে। যা তাকে টেস্টে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করবে।

নান্নু বলেন, ‘কিছুটা ঘাটতি থাকলেও শিক্ষার্থী হিসেবে সে অগ্রণী। তার কিছুটা ইনজুরি সমস্যা ছিল, যেটি তাকে মানষিকভাবেও কিছুটা প্রভাবিত করছে। তবে এই মুহূর্তে তার মধ্যে কোন ইনজুরি নেই। আমি জানি নিজকে প্রমাণে সে মরিয়া হয়ে আছে। ’

শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ে বড় ভুমিকা রেখেছিলেন মুস্তাফিজ। ওয়ানডে ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করার পরপরই ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের জায়ান্ট দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।
সেখানেই থেমে থাকেনি। ক্রমেই ওয়ানডে ক্রিকেটে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকে টাইগাররা। আর এই শক্তিশালী হবার নেপথ্যে বড় অস্ত্র ছিল মুস্তাফিজ। বাসস।

অতীতের ওই সুখস্মৃতি এখনো স্মরণীয় হয়ে আছে ফিজের কাছে। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষিক্ত হয়েই বিশ্ববাসীর নজর কাড়েন তিনি। নিজেকে সেরা বোলারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

মুস্তাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে অভিষেকের ওই ম্যাচ দুটিকেই এখনো সেরা মনে করি আমি। এরপর আমি তুলে নেব ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচকে। কারণ ওই দুই ম্যাচেই আমি ৫টি করে উইকেট পেয়েছি।’

এ পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ৫৮টি ওয়ানডেতে ১০৯টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন মুস্তাফিজ। যদিও টেস্টে এখনো সে ভাবে জ¦লে উঠতে পারেননি। তবে প্রধান নির্বাচক নান্নুর দৃঢ় বিশ্বাস বাঁহাতি এই পেসারের টেস্টে প্রতিষ্ঠা লাভের সুযোগ এখনো আছে।

জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মতে বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার। বিশেষ করে সে ফিটনেস ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করছে, তাতে আমি আশাবাদি।’