মুম্বাইকে হারিয়ে আইপিএলে শুভ সূচনা চেন্নাইয়ের

হার্দিক পান্ডিয়া চেয়েছিলেন বাউন্ডারি পার করতে। হিটম্যান ব্যর্থ হওয়ার পর রানের গতি বাড়াতে হতোই। চেষ্টা করেছিলেন হার্দিক; কিন্তু একেবারে জাদেজার বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ ধরলেন ফ্যাফ ডু প্লেসি। একবার নয় বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ ধরলেন দু’‌বার।

আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে এটাই একমাত্র চিত্র নয়। লুঙ্গি এনগিদির বলে ধোনি যে ক্যাচটা ধরলেন, তাতে আওয়াজ উঠবে ভক্তকুলের কাছে, অবসর ভেঙে ফিরে এসো মাহি; কিন্তু তিনি তো ক্যাপ্টেন কুল। বরাবর চেয়েছেন, পর্দার আড়ালে থাকতে, সাফল্যের সময় সতীর্থদের বরাবর এগিয়ে দিয়েছেন। ওটাই প্রকৃত নেতার কাজ। নিজে বরাবর একটা দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন।

করোনা সংক্রমনের মধ্যেই আইপিএল। একমাত্র লোকসভা ভোট ছাড়া এখনও পর্যন্ত ভারতের বাইরে যায়নি মাল্টি বিলিয়ন ডলারের এই লিগ; কিন্তু এবারই সব যেন উল্টো করে দিল ওই মহামারি ভাইরাসটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবার আইপিএল। জৈব সুরক্ষা বলয় থেকে আরও কত যে নিয়ম।

আইপিএলের আগে চলে এল বড় দুঃসংবাদ। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আইপিএল থেকে সরে গেলেন সুরেশ রায়না। একই পথ অনুসরণ করলেন হরভজন। তাতেও সিএসকে’কে দমিয়ে রাখা গেল না।

ধোনি টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন উদ্বোধনী ম্যাচে। মাহির সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে বল হাতে উঠেপড়ে লাগলেন দীপক চাহার, লুঙ্গি এনগিদি, রবিন্দ্র জাদেজারা। চাহার ও জাদেজা নিলেন দুটি করে উইকেট। তিনটি উইকেট গেল এনগিডির দখলে।

রোহিত রান পাননি। ডি’‌কক (‌৩৩)‌ ভাল শুরু করেও বড় রান করতে ব্যর্থ। মুম্বাই ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪২ করলেন সৌরভ তিওয়ারি। বাকিরা ব্যর্থ। যার ফলে ২০ ওভারে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ ছিল ১৬২/‌৯।

জবাবে চেন্নাইয়ের শুরু ভাল হয়নি। শেন ওয়াটসন, মুরালি বিজয় ব্যর্থ। মাত্র ৬ রানের মধ্যে ২ উইকেট পড়ে গেলেও কেঁপে যায়নি তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। প্রোটিয়া ফাফ ডু’‌প্লেসির সঙ্গে জুটিতে ১১৫ রান যোগ করে গেলেন ২০১৯ বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়া থেকে বাদ পড়া রাইডু।

যিনি করলেন ৪৮ বলে ৭১। ৬ টি চারের সঙ্গে মারলেন ৩ টি ছয়। তার চেয়েও বড় কথা, বারবার সম্ভবত বোঝাতে চাইলেন, বিশ্বকাপ দল থেক আমায় বাদ দিয়ে ঠিক হয়নি।

ম্যাচটা হালকা উত্তেজনার পর্যায়ে গিয়েছিল। কিন্তু মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ নিয়ে গেল চেন্নাই। বিশেষ করে ফ্যাফ ডু প্লেসি। ৪৪ বলে অপরাজিত ৫৮ রান করে দলকে এনে দিলেন ৫ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয়।

এই আইপিএল শুরুর আগে অনেক কথা হচ্ছিল। এখানকার উইকেট স্পিনারদের সাহায্য করবে। কিন্তু আদতে দেখা গেল মাথা ঠান্ডা রাখতে পারবে যে, ম্যাচও বের করে নেবে সে। রায়ডু’‌র বাকি রাখা কাজটা করে গেলেন ডু’‌প্লেসি। করলেন অর্ধশতররান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে মু্ম্বাইয়ের রেকর্ড যে ভাল নয়, তা আরো একবার প্রমাণ হয়ে গেল। ৫ উইকেটে ম্যাচ পকেটে পুরে নিলো চেন্নাই। তাও চার বল বাকি থাকতে। মহেন্দ্র সিং ধোনি ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছিলেন। ২ বল খেলেছিলেনও। কিন্তু কোনো রান করতে পারেননি। তবুও ম্যাচ ফিনিশ করে বের হয়ে আসলেন।