for Add

চলেই গেলেন বাদল রায়

রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কিংবদন্তি ফুটবলার বাদল রায় আর নেই। সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশ। আশির দশকের মাঠ মাতানো এ ফুটবলার লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আজ রোববার বিকেল ৫.৩৫ মিনিটে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিক্যালে চিকিৎসারত অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।

বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারে বাদল রায় ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জার্সিতে খেলেছেন ১২ বছর। লাল-সবুজ জার্সি গায়ে পাঁচ বছর জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে ক্রীড়াঙ্গনে মোহামেডানের বাদল রায় হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন। ১৯৭৭ সালে মোহামেডানের জার্সিতে ঢাকার ফুটবলে তার অভিষেক হয়েছিল।

তারকা ফুটবলার বাদল রায় খেলোযাড়ী জীবনের ইতি টেনে একজন সফল সংগঠক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের যুগ্মসম্পাদক ও সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপমহাসচিব ও সহসভাপতি ছিলেন। এমন কী, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ট্রেজারার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখ্য বাদল রায় ২০১৭ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে তার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাদল রায়কে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিলেন। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। এর পর থেকে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারতেন না। তবুও তার প্রিয় মাঠে আসার চেষ্টা করতেন। ১৩ আগস্ট করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা করে করোনামুক্ত হন।

কিন্তু গত ৫ নভেম্বর বাদল রায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আসগর আলী হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তাররা তাকে দ্রুত আইসিইউতে নেন। এর পর ১১ নভেম্বর অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। পরে পরীক্ষা-নীরিক্ষায় সেখানে তার লিভারে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

কিংবদন্তি ফুটবলার বাদল রায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দিন এবং ক্রীড়াঙ্গনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন. ক্লাব ও সংগঠনের ব্যক্তিবর্গরা।

for Add